মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা

           ১৯৭১ ইং সনে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বাঙ্গালীদের প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিলেন, গোটা দেশ স্বাধীনতা ও মুক্তির আন্দোলনে উদ্যোলিত। নীলফামারী একটি মহকুমা শহর, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নীলফামারীর অগণিত ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম শুরু করে। মিটিং, মিছিল ও সভা সমাবেশ হতে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং শুরু হয় প্রতিরোধ। মহকুমা শহরে রক্ষিত অস্ত্রাগার হতে অস্ত্র সংগ্রহ করে ট্রেনিং শুরু হয়। নীলফামারী ৬টি থানা নিয়ে একটি মহকুমা শহর।

            সৈয়দপুর নীলফামারী মহকুমার অন্তর্গত একটি থানা এবং সিংহ ভাগ অবাঙ্গালীর আবাসস্থল। সেখানে একটি সেনাবাহিনীর বিশাল ক্যান্টনমেন্ট আছে। ২৬ শে মার্চ প্রতিরোধ শুরু হলে অবাঙ্গালীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙ্গালীদের উপর। তারা অগণিত বাঙ্গালীদের হত্যা করে, বাঙ্গালী নিধনের প্রতিবাদে গোটা জেলার মুক্তিকামী মানুষ প্রতিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। প্রতিশোধের তাগিদে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে বাঙ্গালী ইপিআর-এর সদস্যরা নীলফামারী শহরে সমবেত হতে থাকে। সংগে যোগ দেয় আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

            ৫ই এপ্রিল ইপিআর, আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ হাজার হাজার জনতা ছুরি,বল্লম,বন্দুক, লাঠি নিয়ে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমনের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে। পাক সেনাদের প্রতিরোধ করার জন্য সৈয়দপুর হতে নীলফামারী পর্যন্ত রাস্তার দুই পার্শ্বে বাংকার করে ইপিআর, পুলিশ ও আনসার সদস্যগণ অপেক্ষা করে। ৭ই এপ্রিল সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাক সেনারা ট্যাংক, কামান ও ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে নীলফামারী শহরের দিকে আসতে থাকে। পাক সেনারা আসার পথে শতশত বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়। পাকসেনারা নীলফামারী শহরের দিকে আসতে থাকলে প্রতিরোধের বুহ্য ভেঙ্গে গেলে ইপিআর, পুলিশ ও আনসার সহ সাধারণ ছাত্র-জনতা সীমান্তের দিকে সরে যায়।পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে শস্বস্ত্র ট্রেনিং নেওয়ার পর ৬নং সেক্টরের অধীন পাকসেনাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা আক্রমন শুরু করে এবং পাক সেনাদের পরাস্ত করতে শুরু করে। 

           নীলফামারী ৬নং সেক্টরের অধীন ছিল এবং সেক্টর কমান্ডার ছিল জনাব খাদেমুল বাশার। যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত ও শহীদ হন। নীলফামারী মহকুমার সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা ও জেলা সদরে অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষকে পাকসেনারা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাক সেনারা পিছু হটতে শুরু করে। ১৩ই ডিসেম্বর পাক সেনারা শহরের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টেন দিকে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং নীলফামারী শহর মুক্ত হয় । ১৩ই ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও হাজার হাজার জনতা নীলফামারী শহরে আনন্দ মিছিল করে।